Posts

ধর্ম ও ধার্মিক

Image
কাটমোল্লার মেয়ে আরেফা বেগম দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। ডাক্তারের পর ডাক্তার দেখাইতে দেখাইতে তাঁহার সন্তানরা ক্লান্ত না হইলেও আরেফা বেগম নিজেই ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছে। তাঁহার রোগের কোনো ঊনিশ-বিশ হইতাছে না। ঔষধের পর ঔষধ চেইঞ্জ হচ্ছে খাবার তালিকা চেইঞ্জ হচ্ছে শুধু চেইঞ্জ হচ্ছে না রোগের আকার ধরণ। প্রচণ্ড অসুস্থতার মইধ্যে ও আরেফা বেগম নামাজ কালাম কাযা করবার পক্ষে না। তা নিয়মিত চলছে। ডাক্তারের পরামর্শ মতো ঔষধ চলছে। কিন্তু সুস্থতাবোধের লক্ষ্যে গাভীর দুধ খাওয়াইতে বলেছিলো ডাক্তার মহাশয়। গাভীর দুধ তো গাভীর দুধ নাই হরিণের দুধ হইয়া গেছে। দু-তিনটে পাড়া মহল্লা পুরো দু-এক এলাকা জুড়ে কোথাও গাভীর দুধ পাওন যায় না। সে-বার খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পাশ্ববর্তী গ্রামে এক গৃহিণীর দু-একটা অস্ট্রেলিয়ান গাভী আছে। গাভী দু'টো বাচ্চা দিয়েছে। দুধের কোনো অমিল নাই। গৃহিণী দুধের আড়ত খুলে বসেছেন। তবে সমস্যা একটা, সমস্যা বড়সড় ছোটখাটো কোনোটা নিজের না সমস্যা হইলো গিয়া কাটমোল্লার নামাজি মেয়ে অসুস্থ আরেফা বেগমের। যে গৃহিণী গাভীর দুধ বিক্রি করেন ঐ মহিলা জাতে বৌদ্ধিস্ট। অপর দিকে আরেফা বেগম নামাজ কালাম পড়া পরহেজগার নারী একজন বড়ুয়া...

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে সৎ ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব বেশি

Image
উত্তর নলবিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বটবৃক্ষ     আজকাল স্কুলে স্কুলে বিস্কুট দেয়, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের টাকা দেয় গাড়ীতে করে স্কুলে যাওয়ার জন্য হেঁটে গেলে ক্লান্ত হয়ে পরবে বলে। আমাদের সময়ে স্কুলে বিস্কুট কিংবা গাড়ী ভাড়ার জন্য টাকা কোনোটাই ছিলো না। প্রায় কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেতাম, সন্ধ্যায় বাড়ীর বাজার আনতে গিয়ে দু চার টাকা, এতে মহাখুশিতে আমরা বিশ্বজয় করে ফেলতাম। তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি, আমাদের সময়ে পিইএসসি ছিলো না। বৃত্তি পরীক্ষা ছিলো মাথাব্যথার কারণ। মডেল টেষ্টের পর মডেল টেষ্ট। কোথাও ফটোকপির মেশিন ছিলো না স্কুল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের এক বাজার থেকে ফটোকপি করতে হত আমাদের। আমান উল্লাহ স্যার আমাদের দুজনকে ফটোকপি করতে পাঠালেন। পঁচিশ টাকায় পঞ্চাশ কপি। টাকা দিলেন এক'শ। আমি আর মোরশেদ মিলে বৈশাখের রৌদ্র খরতাপে হেঁটে হেঁটে ফটোকপি করতে গেলাম। তিন কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে ফটোকপি সম্পন্ন করে হেঁটে হেঁটে আসছি। রাস্তায় ফেটি বক্স আইসক্রিম বিক্রি করছে। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেলেও ঐ পঞ্চাশ টাকা থেকে আইসক্রিম খাওয়ার সাহস হয়নি আমাদের। আজকাল যে স্কুলে বিস্কুট দেওয়া হয় স...

একজন টোকাই ও আমাদের সুশীল সমাজ

Image
আমার সামনে খাড়াইয়া আমারেই জিগান আমি কেডা? হুনবেন আমি কেডা? হুনেন তাইলে, মায়ের ধারে হুনছি, ঐ যে ব্রীজটা দেখতাছেন ঐডার গোড়ায় আমার জন্ম। মায় কইছে, আমারে দুনিয়ায় আনতে মায়ের নাকি অনেক কষ্ট সইহ্য করতে অইছে। দুনিয়ায় আইসাও মায়রে অনেক জ্বালাইছি। মায়, একলা আমারে এত বড় করছে। বাপের কতা জিগান? জন্মের পর হইতে বাপরে দেহা তো দূরের কথা, বাপের নামও হুনি নাই। আর মায়ের ধারে বাপের কতা জিগাইলে মায় কান্দে, হেইলইগ্গা জিগাইও না। তয়, ছোডকালে জিগাইতাম। তহন মায় আমার কাঁনতে কাঁনতে কইত, হগলের নাকি বাপ থাহে নাহ্ আমারে নাকি আল্লায় পাডাইছে। হাচা কথা ভাই, মায় আমার লাইগ্গা অনেক কষ্ট হরছে। আপনাগো মত বড়লোক মাইনষের বাসায় বাসায় কাম করছে। তাও হগলে ঠিকমত খাওন দিত না, টাহা-পয়সা দিত না। আমার মায় নিজে না খাইয়া আমারে খাওয়াইছে আর চোখ দিয়া পানি পরছে। ছোডকালে মায়রে দেখতাম, রাইতে আমারে একলা থুইয়া এক এক ব্যাডার লগে কই জানি যাইত। জিগাইলে কাইন্দা কাইন্দা কইত, টাহা আনতে যাই। তহন আমি বুঝতাম না। কিন্তু অহন বুঝি। মায় নিজের দেহ বেইচ্যা আমারে ভাল কইরা পালনের লাইগ্গা টাহা কামাইত। আপনাগো সুশীল, সভ্য, ...

ফেইসবুক আইডি নিরাপদ রাখবেন কিভাবে

Image
সচারাচর আপনারা অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন যে,ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া কিংবা ক্লোন সংক্রান্ত ঝামেলা ও ডিজেবল হয়ে যাওয়া থেকে কিভাবে আইডিকে সেফ রাখা যায়। আসলে এখন আমরা ফেইসবুক সম্পর্কে কম বেশি প্রায় সকলেই বুঝি, কিন্তু তারপরেও কেন নিজের অতি প্রিয় আইডিটি হ্যাক কিংবা ক্লোন অথবা ডিজেবল হয়ে যায়? তার কারণ এখানে খুব ছোট্ট একটা গেইম খেলছে আপনার বিরোধী ব্যক্তিদ্বয় । মানে যারা আইডিটি হ্যাক কিংবা ডিজেবল করতে চাইছে। গেইমটা খুবই সোজা কিন্তু বেশ মাথার কাজ। আসুন এবার জেনে নিই... ১. প্রথমেই তারা আপনার অ্যাকাউন্ট ইনফো একেবারে হুবহু কপি করে আপনার নামে একটা ফেইক আইডি খুলে ফেলে। ২. তারপর সেই অ্যাকাউন্টে তাদের সারাউন্ডিংসের আরও ১০০ আইডি তারা ওই ফেইক অ্যাকাউন্টে অ্যাড করে নেয়। তারপর শুরু হয় আসল খেলা! ৩. ওই ১০০ আইডি থেকে রিপোর্ট করা হয় ফেসবুকে আপনার অ্যাকাউন্টের অ্যাগেইনেস্টে "Pretending to be someone, → A friend →  নামের জায়গায় ওই ফেইক অ্যাকাউন্টের নামটি" ক্যাটাগরিতে। আমরা মোটামুটি সবাই জানি যে ফেইসবুক অথোরিটি কাউকে হ্যারাসমেন্ট এর পুরোপুরি বিপক্ষে, আর এক্ষেত্রে রিপোর্ট করাই হয় এই ক্যাটাগরি...

টিশার্টের এ-কাল সে-কাল

Image
 টিশার্ট আমাদের অন্যতম প্রিয় পোশাক। আপনি খেয়াল করলেই দেখবেন, পাঞ্জাবি পড়েনা এমন অহরহ লোক পাবেন, কিন্তু টিশার্ট পড়েনা তেমন লোক পাবেন না। সে টিশার্টের সাথে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটুকু ফুঁটিয়ে তুলি। নিজের আদর্শ ব্যক্তিকে অনুস্বরণ করি। নিজের মনোভাবকে প্রকাশ করি। যেমনটা আগে আমাদের টিশার্টে বিভিন্ন রকমের ডিজাইন থাকতো। প্রকৃতির প্রতিচ্ছবির পাশাপাশি থাকতো চে গুয়েভারা, কার্ল মার্কস, ফিদেল কাস্ত্রো, চ্যাপলিন, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, এমন কি সাড়া জাগাঁনো বাংলা কবিতা ও বিশিষ্ট জনের উক্তি । কিন্তু আজকাল দেখা যায় টিশার্টে ছবি থাকে সেফুদার, আর ওসব টিশার্টে লেখা থাকে ক্যানে চলর, মামা সাইটে চাপেন, গাঞ্জা খাবি? কই যাস? তাকালে ক্রাশ খাবো, লোকাল বাস, তুমি একটা ক্রাশ, নাম বললে চাকরি থাকবে না, দাদা খেয়ে এসেছেন না কি যেয়ে খাবেন? কিস্তি আছে? চিনোস আমারে? নিজের চরকায় তেল দেন, এই সব আজে বাজে উদ্ভট সব লেখায় টিশার্ট প্রিন্টিং। কবিতা পছন্দ করেনা তেমন লোক পাওয়া যায়, কিন্তু সংগীত পছন্দ করেনা তেমন লোক পাওয়া দুষ্কর। একটা সময় দেখেছি ভ্যান গফ, জেমস্, মাইক্যাল জ্যাকসন, ফ্রয়েড, এদের ছবি রুমে টাঙিয়ে রাখতো কিংবা তাদের ...

ডিসি'র চুমু সিসি'র দৃশ্য

Image
পোপ ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে একবার যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিলো। ভ্যাটিকানের প্রাক্তন আর্চবিশপ কার্লো মারিয়া ভিগানো'র এই অভিযোগে পোপের পদত্যাগ দাবীর রথ উঠেছিলো।কিন্তু পরবর্তি প্রেক্ষাপট সকলের জানা। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ডোনাল্ট ট্রাম্পের জীবনটাই যৌন কেলেঙ্কারি ময়। পৃথিবীতে প্রায় সকল শাসকের ছিলো একাদিক যৌনদাসী এবং বহু সহধর্মিণী।তারপরেও তারা নিজেদের সহবস্থানে অটুট ছিলেন। কারো প্রাইভেসি ছিলো, কারো প্রাইভেসি ছিলো না। দেশে পতিতালয়ের লাইসেন্স দেয় রাষ্ট্র, কিন্তু লাইসেন্স পত্রের কোথাও উল্লেখ থাকেনা সরকারি আমলা খদ্দর হওয়া নিষিদ্ধ। যৌনতার কোনো ধর্ম নেই, প্রেম ভালোবাসার কোনো বার্ধক্যতা নেই। তবে প্রতিটি অপরাধের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য, হুজুগের বসে সম্মতিকে অভিযোগ বানানোও অপরাধ। সদ্য আলোচিত জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবির'রের যৌন আবেদনময়ী ভিডিও বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়। যে ভিডিও বাংলাদেশের প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে, মাথানিচু করে দিয়েছে ৬৩ জেলার ডিসি সহ সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। রাজনৈতিক দলের নেতার হাতে সরকারি আমলাদের চাবিকাঠি। এক সময় এদেশে রাজনৈতিক দলের নেতার ...

সংবাদ

Image
আমাদের সংবাদ মাধ্যমে খবর খুব কমই থাকে। খবরের নামে যা প্রকাশ করা হয় তা মূলত বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনকে খবর বলে সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ করতে করতে মানুষ খবর আর বিজ্ঞাপনের পার্থক্য ভুলে গেছে। খবর হলো সেগুলোই যা ক্ষমতাবান, বিত্তশালী, প্রভাবশালীরা লুকিয়ে রাখেন বাকি সবই বিজ্ঞাপন। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম অনলাইন মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমের মালিক সত্ত্বাধিকারী কোনো না কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা ব্যবসায়িক ক্ষমতাবান কেউ। যারা বড় বড় দুর্নীতি আর অপরাধ করছেন তারা ছোট ছোট অপরাধকে সংবাদ মাধ্যমে খবর আকারে প্রকাশ করে নিজেদের বড় বড় অপরাধের খবর আড়াল করছেন। আমাদের সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক ও সংবাদ কর্মীরা কেউ স্বাধীন নন। কোনো না কোনো ভাবে তারা অপরের ক্ষমতার খোলসে আবদ্ধ। ক্ষমতাবান ব্যক্তির নিকট জবাবদিহিতা করতে হলে আপনার সম্পাদক ও সংবাদ কর্মী না হওয়ায় শ্রেয়। সম্পাদক ও সংবাদ কর্মীকে হতে হবে ক্ষমতাবান প্রভাবশালী ব্যক্তির জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। তাঁর একমাত্র জবাবদিহিতা থাকবে সাংবিধানিক সুষ্ঠ আইনের প্রতি।

ডিসি'র চুমু বৃত্তান্ত

Image
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন লিউনস্কি নামের এক নারীর সাথে যৌন কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে গিয়েছিলেন। বিল ক্লিনটনের নামে অভিযোগ আনা হয়েছিল তিনি লিউনস্কি নামের এক নারীর সাথে ঐ নারীর সম্মতিক্রমে চুমু খেয়েছেন। প্রথম দিকে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হওয়ায় তিনি নিজ রাষ্ট্রের মানুষের সমবেত করে এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি সে বিবৃতি তে বলেন যে, আমেরিকা পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রে সাধারণ জনগণ একে অপরের সাথে যৌন সম্পর্কে মিলিত হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু আমি প্রেসিডেন্ট বলে লিউনস্কিকে তাঁর সম্মতিতে চুমু খেয়ে অপরাধী। কেননা আমি এই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। জামালপুরের ডিসি তাঁর সরকারী কার্যালয়ের পাশের কক্ষে এক সহকর্মী কে আলিঙ্গনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যে দেশে ঘুষ খাওয়া অপরাধ নয়, সে দেশে বিপরিত লিঙ্গের সম্মতিক্রমে চুমু খাওয়া অপরাধ কেন? বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সরকারী বে-সরকারী থেকে শুরু করে এনজিও কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন পরকিয়ার অনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। যেখানে বাবার কাছে মেয়ে নিরাপদ নয়, শিক্ষকের কাছে ছাত্রী, হুজুরের ক...

রসকষ-৬

Image
-তদন্ত কমিটি কি হয়েছে? জানি,একটি তদন্ত কমিটি হবে। তারা চা-কফি খেয়ে অনেক তদন্ত করার পর আগুনের সূত্রপাত বের করবেন। মিড়িয়ার সামনে এসে বলবেন, শট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে সে কমিটিতে সেফুদাকে প্রধান করার অভিমত ব্যক্ত করছি। -আমাদের দেশে উঁচু তলায় উঠার সরঞ্জাম নেই, কিন্তু উঁচু তলার ভবন অনুমোদন দেওয়ার অফিস ঠিকই রয়েছে। -যে দেশে আগুন নেভাতে নেভাতে লাশের সংখ্যা বাড়ে, সে দেশ নাকি আগামীতে  বিশ্বের ডন হবে।ডন হবে না গুন্ডা হবে সেটা মাথায় আসছেনা। -অগ্নিঝরা মার্চে, অগ্নি অগ্নি করতে করতে এই জাতি আগুন খেয়ে বমি করে।এই দেশে ভবিষ্যতে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের বাম্পার ফলন হবে কিনা জানিনা, তবে ফটোগ্রাফার আর ভিডিওগ্রাফি করার ব্যক্তির বাম্পার ফলন ঠিকই হবে।তার প্রমাণ আজ দেখেছে বিশ্ব। -আগামী বিসিএসে কমন প্রশ্ন কোন দেশের অধিকাংশ মানুষ অগ্নিকাণ্ডে মারা যায়? নির্ধিদায় বাংলাদেশ লেখা যেতে পারে। -আগামী কাল থেকে ফেসবুকে ভাইরাল হবে, কিছু ইমুশনাল গল্প।এই যেমন প্রেগন্যান্ট স্ত্রী সিঁড়ি বেয়ে নামতে পারেনি বলে,তার বর ও নামেনি। -দিনশেষে সব হতাশা কেঁটে উঠার একমাত্র অবলম্বন আমাদের একটি স্যাটেলাইট আ...

রসকষ-৫

-নিয়ম করে আগুন লাগা কোনো  সুনিদির্ষ্ট মহলকে ফাঁসানোর পায়তারা। -ফায়ারসার্ভিসের পানির ফাঁটা পাইপ চেপে ধরায় সবাই নাঈমকে স্যালুট জানাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে পুরো বিষয়টি মনিটরিং করেছেন, তাঁকে কেউ ধন্যবাদ দিচ্ছে না। -নাঈমকে স্যালুট জানাতে জানাতে আমরা ক্লান্ত হচ্ছি, কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করছিনা উন্নয়ণশীল রাষ্ট্রের ফায়ারসার্ভিসের পানির পাইপ ফাঁটা কেন? -কার কাছে জিজ্ঞেস করবো।আগে বিশ্বের অনুন্নত রাষ্ট্রগুলো সিঙ্গাপুর হওয়ার স্বপ্ন দেখতো।কিন্তু আজ, সিঙ্গাপুরও বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ভেবে দেখেছেন কি? আমরা স্বপ্নদোষে কতো এগিয়ে গেছি? -পরের বাচ্চা আয় রোজগার করলে নিজের ছেলে বলে দাবী করি, কিন্তু নিজের ছেলে দোষ করলে পরের মাকে গালাগাল দিয়ে নিজের ছেলেকে অস্বীকার করি।হুম এটা বাঙালীর কাজ। এই যেমন বিল্ডিং করার অনুমোদন দিয়েছে, ইনকাম টেক্স নিয়েছে। কিন্তু আগুন লাগাই অবৈধ  হয়েগেল। -আচ্ছা যারা এফআর টাউয়ার, লিটনের ফ্ল্যাট অবৈধ বলছেন তারা কতোটুকু বৈধ? -রাষ্ট্র উন্নত হলে কনডম ও উন্নত করতে হয়, না হলে সেসব কনডম দুর্ঘটনাবশত মান্দার বাচ্চার জন্ম হতে পারে। -আচ্ছা নাঈম ফায়ারসার্ভিসের ...

আমাদের মিডিয়া গুলো

“আমাদের মিডিয়া গত কয়দিন আগে আগুন লাগা বনানীর এফ আর টাওয়ারকে দুইটি অংশে ভাগ করেছে। একটি বৈধ অংশ,অপরটি অবৈধ অংশ।  বৈধ অংশের মালিকের নাম তারা প্রকাশ করছে না। কিন্তু অবৈধ অংশের মালিকের নাম তারা প্রকাশ করছে।কারন ঐ অংশের মালিক বিএনপি নেতা।যার এখন মিডিয়া পোষার মত ক্ষমতা নাই।  ঐ সম্পুর্ন ভবনের মালিক রুপায়ন গ্রুপ। রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল ভবন তৈরির সময় ১৮ তালা পর্যন্ত অনুমোদন পেয়েছিলেন।এরপর ১৯-২৪ তলা পর্যন্ত বাড়ানো হলে সে অংশ কিনে নেন বিএনপি নেতা তাসবীর।আগুন লেগেছিল ভবনের দশম তলায়।রুপায়ন গ্রুপের হিউজ ইনভেস্ট আছে বিজ্ঞাপনে।তাই এসব সাংবাদিকরা নিজের পেট বাঁচানোর জন্য সামনে নিয়ে আসছে না আগুন লাগা অংশের মালিক মুকুলের নাম।  মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে বের করেছেন 'এফ আর টাওয়ারে'র অবৈধ অংশের মালিকের বিএনপি পরিচয়।কিন্তু উনাদের সে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে নাই।  এই একই ভবনে ২০০৮ সালে প্রথম আগুন লাগে।  সে একই ভবনে আবারো আগুন লেগেছিল ২০১১ সালে।  এবং, ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে দেশে একটা ভূমিকম্প হয়। সেই ভূমিকম্পে বনানী বাণিজ্যিক...

রাষ্ট্র হত্যা করো আমায়

Image
রাষ্ট্র তুমি আমায় মারো,               তবু নিরাপদ সড়ক করো। বিশৃঙ্খলার আবছাঁয়াতে,              মরছে মানুষ দিনে রাতে। লাইসেন্স নামের ধোঁকাবাজি,                 পল্টিনেতার কারসাজি। মাদক সেবনে গাড়ী চালাই,                  পিষে মারা তুচ্ছ প্রায়। যদি চালক ইয়াবা খাই,                লাইসেন্সে তার কি আসে যায়। নিরাপদ আন্দোলনে,               ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামে। কাঁদানেগ্যাস মারছো ছিঁটে,                 লাঠির বারি ছাত্রের পিঠে। লাথি আমায় মারবে যতো,                   নেচে উঠবে রক্ত ততো। তারুণ্যের লোহ তেজে,                  রুখে দাঁড়াবো জেব্রাক্রসে। নেতা প্রতিবার বাণী শোনাই,              ...

ডাকসু বাঁচাও দেশ বাঁচাও

Image
দেশ রসাতলে যাচ্ছে বলে প্রজন্মকে রসাতলে ঠেলে দেওয়া যায় না। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের জন্ম আগ থেকে সব আন্দোলন সংগ্রাম যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক সৃষ্টিতে অবদান রেখে আসছে।আর ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ বলা হয়।বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার হল এই ছাত্র সংসদ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসে গৌরবময় ভূমিকা রাখে এই ছাত্র সংসদ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান  ৭১'এর স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সাহায্য করেছে ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে নির্বাচন হয়েছে সাত বার। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৯০ সালের নির্বাচন ছিল ৭ম ও শেষ নির্বাচন। কিন্তু দীর্ঘ সময়কাল পরে হতে যাওয়া ডাকসু নির্বাচন যে এতো কলঙ্ক পূর্ণ হবে তা কখনো কল্পনা করেনি জাতি। আজ দলক...

১১ মার্চ ঢাবি মৃত্যু দিবস

Image
ঢাবি চবি রাবি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো না কোনো ছাত্র সংগঠন ধারা মার খাই। মার খেয়ে আসছে প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যে সমস্ত সংগঠন গুলো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বেশ আধিপত্য বিস্তারকারী সে সবের দ্বারা। কখনো ছাত্রলীগ ছিল, কখনো ছাত্রদল, কিংবা কখনো ছাত্রশিবির পিটিয়েছে তাদের। কিন্তু নির্ধারিত ভাবে কোন সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত টিস্যুর ন্যায় ব্যবহার ও উষ্ঠা পেদানি দিবে তার কোনো নির্দিষ্টতা ছিলো না। মেরুদণ্ডহীন ভাবে ছিলো ছাত্র সংসদ। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাবি'র সাধারণ শিক্ষার্থীদের উষ্ঠা পেদানির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাত্রলীগের হাতে সমর্পণ করা হলো। আর এতে নির্ধিদায় বলতে পারি ১১ ই মার্চ জাতীয় ঢাবি'র মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

জন্ম ও ধর্ম

Image
শীতের রাত।মুদির দোকানদার জাপান বড়ুয়া দোকান বন্ধ করে বাড়ী ফিরছেন।বাজারের অন্যতম পরিচিত সওদাগর জাপান বড়ুয়ার দোকান থেকে বাড়ীর দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার।একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি পূর্ণ এই উত্তরনলবিলা গ্রামটিতে রয়েছে মুসলিম হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীতে বসবাস।সবার মাঝে রয়েছে একটি সাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্ক।দেখলে নির্ধারণ করা কঠিন।কে মুসলিম,কে হিন্দু,কে বৌদ্ধ।এক ধর্মের সাথে অন্য ধর্মাবলম্বীর লোকের সম্পর্কটা কয়েনের মতো।একদম আড়াআড়ী ভাব,এক অংশ বাদ দিলে অন্য অংশ কল্পনা করা দুষ্কর।জাপান বড়ুয়ার বাড়ী যেতে মধ্য রাস্তায় প্রথমে পড়ে চিতা।তারপরে শ্মশান।গভীর রাত সময় বারোটা ছুঁই ছুঁই।প্রতিদিন কোনো না কোনো পথচারীর সাথে তিনি রাতে বাড়ী ফিরেন।যদি কানো পথচারী  পাওয়া না যায়,তবে গাড়ীতে করে ফিরেন।গভীর রাতে এই দ্বীপাঞ্চলে গাড়ী চলাচল তেমন একটা হয়না।তার উপর আবার শীতের দাপট।দ্রুতগতিতে হাঁটছেন তিনি।চিতার কাছে এসে একটু ভয় লাগলো।তা পেরিয়ে চললেন ডানে বামে না তাকিয়ে।শ্মশান পেরিয়ে বাড়ীর কাছাকাছি মধ্য রাস্তায় হঠাৎ শিশুর কাঁন্নাস্বর শুনতে পেলেন তিনি।ভয়ে শিহরিত হয়ে উঠলো পুরো শরীর।খুব খেয়াল করার চেষ্টা করলেন।এটি আসলে কোনো শি...