Posts

ধর্ম ও ধার্মিক

Image
কাটমোল্লার মেয়ে আরেফা বেগম দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। ডাক্তারের পর ডাক্তার দেখাইতে দেখাইতে তাঁহার সন্তানরা ক্লান্ত না হইলেও আরেফা বেগম নিজেই ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছে। তাঁহার রোগের কোনো ঊনিশ-বিশ হইতাছে না। ঔষধের পর ঔষধ চেইঞ্জ হচ্ছে খাবার তালিকা চেইঞ্জ হচ্ছে শুধু চেইঞ্জ হচ্ছে না রোগের আকার ধরণ। প্রচণ্ড অসুস্থতার মইধ্যে ও আরেফা বেগম নামাজ কালাম কাযা করবার পক্ষে না। তা নিয়মিত চলছে। ডাক্তারের পরামর্শ মতো ঔষধ চলছে। কিন্তু সুস্থতাবোধের লক্ষ্যে গাভীর দুধ খাওয়াইতে বলেছিলো ডাক্তার মহাশয়। গাভীর দুধ তো গাভীর দুধ নাই হরিণের দুধ হইয়া গেছে। দু-তিনটে পাড়া মহল্লা পুরো দু-এক এলাকা জুড়ে কোথাও গাভীর দুধ পাওন যায় না। সে-বার খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পাশ্ববর্তী গ্রামে এক গৃহিণীর দু-একটা অস্ট্রেলিয়ান গাভী আছে। গাভী দু'টো বাচ্চা দিয়েছে। দুধের কোনো অমিল নাই। গৃহিণী দুধের আড়ত খুলে বসেছেন। তবে সমস্যা একটা, সমস্যা বড়সড় ছোটখাটো কোনোটা নিজের না সমস্যা হইলো গিয়া কাটমোল্লার নামাজি মেয়ে অসুস্থ আরেফা বেগমের। যে গৃহিণী গাভীর দুধ বিক্রি করেন ঐ মহিলা জাতে বৌদ্ধিস্ট। অপর দিকে আরেফা বেগম নামাজ কালাম পড়া পরহেজগার নারী একজন বড়ুয়া...

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে সৎ ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব বেশি

Image
উত্তর নলবিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বটবৃক্ষ     আজকাল স্কুলে স্কুলে বিস্কুট দেয়, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের টাকা দেয় গাড়ীতে করে স্কুলে যাওয়ার জন্য হেঁটে গেলে ক্লান্ত হয়ে পরবে বলে। আমাদের সময়ে স্কুলে বিস্কুট কিংবা গাড়ী ভাড়ার জন্য টাকা কোনোটাই ছিলো না। প্রায় কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেতাম, সন্ধ্যায় বাড়ীর বাজার আনতে গিয়ে দু চার টাকা, এতে মহাখুশিতে আমরা বিশ্বজয় করে ফেলতাম। তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি, আমাদের সময়ে পিইএসসি ছিলো না। বৃত্তি পরীক্ষা ছিলো মাথাব্যথার কারণ। মডেল টেষ্টের পর মডেল টেষ্ট। কোথাও ফটোকপির মেশিন ছিলো না স্কুল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের এক বাজার থেকে ফটোকপি করতে হত আমাদের। আমান উল্লাহ স্যার আমাদের দুজনকে ফটোকপি করতে পাঠালেন। পঁচিশ টাকায় পঞ্চাশ কপি। টাকা দিলেন এক'শ। আমি আর মোরশেদ মিলে বৈশাখের রৌদ্র খরতাপে হেঁটে হেঁটে ফটোকপি করতে গেলাম। তিন কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে ফটোকপি সম্পন্ন করে হেঁটে হেঁটে আসছি। রাস্তায় ফেটি বক্স আইসক্রিম বিক্রি করছে। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেলেও ঐ পঞ্চাশ টাকা থেকে আইসক্রিম খাওয়ার সাহস হয়নি আমাদের। আজকাল যে স্কুলে বিস্কুট দেওয়া হয় স...

একজন টোকাই ও আমাদের সুশীল সমাজ

Image
আমার সামনে খাড়াইয়া আমারেই জিগান আমি কেডা? হুনবেন আমি কেডা? হুনেন তাইলে, মায়ের ধারে হুনছি, ঐ যে ব্রীজটা দেখতাছেন ঐডার গোড়ায় আমার জন্ম। মায় কইছে, আমারে দুনিয়ায় আনতে মায়ের নাকি অনেক কষ্ট সইহ্য করতে অইছে। দুনিয়ায় আইসাও মায়রে অনেক জ্বালাইছি। মায়, একলা আমারে এত বড় করছে। বাপের কতা জিগান? জন্মের পর হইতে বাপরে দেহা তো দূরের কথা, বাপের নামও হুনি নাই। আর মায়ের ধারে বাপের কতা জিগাইলে মায় কান্দে, হেইলইগ্গা জিগাইও না। তয়, ছোডকালে জিগাইতাম। তহন মায় আমার কাঁনতে কাঁনতে কইত, হগলের নাকি বাপ থাহে নাহ্ আমারে নাকি আল্লায় পাডাইছে। হাচা কথা ভাই, মায় আমার লাইগ্গা অনেক কষ্ট হরছে। আপনাগো মত বড়লোক মাইনষের বাসায় বাসায় কাম করছে। তাও হগলে ঠিকমত খাওন দিত না, টাহা-পয়সা দিত না। আমার মায় নিজে না খাইয়া আমারে খাওয়াইছে আর চোখ দিয়া পানি পরছে। ছোডকালে মায়রে দেখতাম, রাইতে আমারে একলা থুইয়া এক এক ব্যাডার লগে কই জানি যাইত। জিগাইলে কাইন্দা কাইন্দা কইত, টাহা আনতে যাই। তহন আমি বুঝতাম না। কিন্তু অহন বুঝি। মায় নিজের দেহ বেইচ্যা আমারে ভাল কইরা পালনের লাইগ্গা টাহা কামাইত। আপনাগো সুশীল, সভ্য, ...

ফেইসবুক আইডি নিরাপদ রাখবেন কিভাবে

Image
সচারাচর আপনারা অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন যে,ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া কিংবা ক্লোন সংক্রান্ত ঝামেলা ও ডিজেবল হয়ে যাওয়া থেকে কিভাবে আইডিকে সেফ রাখা যায়। আসলে এখন আমরা ফেইসবুক সম্পর্কে কম বেশি প্রায় সকলেই বুঝি, কিন্তু তারপরেও কেন নিজের অতি প্রিয় আইডিটি হ্যাক কিংবা ক্লোন অথবা ডিজেবল হয়ে যায়? তার কারণ এখানে খুব ছোট্ট একটা গেইম খেলছে আপনার বিরোধী ব্যক্তিদ্বয় । মানে যারা আইডিটি হ্যাক কিংবা ডিজেবল করতে চাইছে। গেইমটা খুবই সোজা কিন্তু বেশ মাথার কাজ। আসুন এবার জেনে নিই... ১. প্রথমেই তারা আপনার অ্যাকাউন্ট ইনফো একেবারে হুবহু কপি করে আপনার নামে একটা ফেইক আইডি খুলে ফেলে। ২. তারপর সেই অ্যাকাউন্টে তাদের সারাউন্ডিংসের আরও ১০০ আইডি তারা ওই ফেইক অ্যাকাউন্টে অ্যাড করে নেয়। তারপর শুরু হয় আসল খেলা! ৩. ওই ১০০ আইডি থেকে রিপোর্ট করা হয় ফেসবুকে আপনার অ্যাকাউন্টের অ্যাগেইনেস্টে "Pretending to be someone, → A friend →  নামের জায়গায় ওই ফেইক অ্যাকাউন্টের নামটি" ক্যাটাগরিতে। আমরা মোটামুটি সবাই জানি যে ফেইসবুক অথোরিটি কাউকে হ্যারাসমেন্ট এর পুরোপুরি বিপক্ষে, আর এক্ষেত্রে রিপোর্ট করাই হয় এই ক্যাটাগরি...

টিশার্টের এ-কাল সে-কাল

Image
 টিশার্ট আমাদের অন্যতম প্রিয় পোশাক। আপনি খেয়াল করলেই দেখবেন, পাঞ্জাবি পড়েনা এমন অহরহ লোক পাবেন, কিন্তু টিশার্ট পড়েনা তেমন লোক পাবেন না। সে টিশার্টের সাথে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটুকু ফুঁটিয়ে তুলি। নিজের আদর্শ ব্যক্তিকে অনুস্বরণ করি। নিজের মনোভাবকে প্রকাশ করি। যেমনটা আগে আমাদের টিশার্টে বিভিন্ন রকমের ডিজাইন থাকতো। প্রকৃতির প্রতিচ্ছবির পাশাপাশি থাকতো চে গুয়েভারা, কার্ল মার্কস, ফিদেল কাস্ত্রো, চ্যাপলিন, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, এমন কি সাড়া জাগাঁনো বাংলা কবিতা ও বিশিষ্ট জনের উক্তি । কিন্তু আজকাল দেখা যায় টিশার্টে ছবি থাকে সেফুদার, আর ওসব টিশার্টে লেখা থাকে ক্যানে চলর, মামা সাইটে চাপেন, গাঞ্জা খাবি? কই যাস? তাকালে ক্রাশ খাবো, লোকাল বাস, তুমি একটা ক্রাশ, নাম বললে চাকরি থাকবে না, দাদা খেয়ে এসেছেন না কি যেয়ে খাবেন? কিস্তি আছে? চিনোস আমারে? নিজের চরকায় তেল দেন, এই সব আজে বাজে উদ্ভট সব লেখায় টিশার্ট প্রিন্টিং। কবিতা পছন্দ করেনা তেমন লোক পাওয়া যায়, কিন্তু সংগীত পছন্দ করেনা তেমন লোক পাওয়া দুষ্কর। একটা সময় দেখেছি ভ্যান গফ, জেমস্, মাইক্যাল জ্যাকসন, ফ্রয়েড, এদের ছবি রুমে টাঙিয়ে রাখতো কিংবা তাদের ...

ডিসি'র চুমু সিসি'র দৃশ্য

Image
পোপ ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে একবার যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিলো। ভ্যাটিকানের প্রাক্তন আর্চবিশপ কার্লো মারিয়া ভিগানো'র এই অভিযোগে পোপের পদত্যাগ দাবীর রথ উঠেছিলো।কিন্তু পরবর্তি প্রেক্ষাপট সকলের জানা। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ডোনাল্ট ট্রাম্পের জীবনটাই যৌন কেলেঙ্কারি ময়। পৃথিবীতে প্রায় সকল শাসকের ছিলো একাদিক যৌনদাসী এবং বহু সহধর্মিণী।তারপরেও তারা নিজেদের সহবস্থানে অটুট ছিলেন। কারো প্রাইভেসি ছিলো, কারো প্রাইভেসি ছিলো না। দেশে পতিতালয়ের লাইসেন্স দেয় রাষ্ট্র, কিন্তু লাইসেন্স পত্রের কোথাও উল্লেখ থাকেনা সরকারি আমলা খদ্দর হওয়া নিষিদ্ধ। যৌনতার কোনো ধর্ম নেই, প্রেম ভালোবাসার কোনো বার্ধক্যতা নেই। তবে প্রতিটি অপরাধের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য, হুজুগের বসে সম্মতিকে অভিযোগ বানানোও অপরাধ। সদ্য আলোচিত জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবির'রের যৌন আবেদনময়ী ভিডিও বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়। যে ভিডিও বাংলাদেশের প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে, মাথানিচু করে দিয়েছে ৬৩ জেলার ডিসি সহ সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। রাজনৈতিক দলের নেতার হাতে সরকারি আমলাদের চাবিকাঠি। এক সময় এদেশে রাজনৈতিক দলের নেতার ...

সংবাদ

Image
আমাদের সংবাদ মাধ্যমে খবর খুব কমই থাকে। খবরের নামে যা প্রকাশ করা হয় তা মূলত বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনকে খবর বলে সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ করতে করতে মানুষ খবর আর বিজ্ঞাপনের পার্থক্য ভুলে গেছে। খবর হলো সেগুলোই যা ক্ষমতাবান, বিত্তশালী, প্রভাবশালীরা লুকিয়ে রাখেন বাকি সবই বিজ্ঞাপন। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম অনলাইন মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমের মালিক সত্ত্বাধিকারী কোনো না কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা ব্যবসায়িক ক্ষমতাবান কেউ। যারা বড় বড় দুর্নীতি আর অপরাধ করছেন তারা ছোট ছোট অপরাধকে সংবাদ মাধ্যমে খবর আকারে প্রকাশ করে নিজেদের বড় বড় অপরাধের খবর আড়াল করছেন। আমাদের সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক ও সংবাদ কর্মীরা কেউ স্বাধীন নন। কোনো না কোনো ভাবে তারা অপরের ক্ষমতার খোলসে আবদ্ধ। ক্ষমতাবান ব্যক্তির নিকট জবাবদিহিতা করতে হলে আপনার সম্পাদক ও সংবাদ কর্মী না হওয়ায় শ্রেয়। সম্পাদক ও সংবাদ কর্মীকে হতে হবে ক্ষমতাবান প্রভাবশালী ব্যক্তির জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। তাঁর একমাত্র জবাবদিহিতা থাকবে সাংবিধানিক সুষ্ঠ আইনের প্রতি।