ডিসি'র চুমু সিসি'র দৃশ্য
পোপ ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে একবার যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিলো। ভ্যাটিকানের প্রাক্তন আর্চবিশপ কার্লো মারিয়া ভিগানো'র এই অভিযোগে পোপের পদত্যাগ দাবীর রথ উঠেছিলো।কিন্তু পরবর্তি প্রেক্ষাপট সকলের জানা। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ডোনাল্ট ট্রাম্পের জীবনটাই যৌন কেলেঙ্কারি ময়। পৃথিবীতে প্রায় সকল শাসকের ছিলো একাদিক যৌনদাসী এবং বহু সহধর্মিণী।তারপরেও তারা নিজেদের সহবস্থানে অটুট ছিলেন। কারো প্রাইভেসি ছিলো, কারো প্রাইভেসি ছিলো না।
দেশে পতিতালয়ের লাইসেন্স দেয় রাষ্ট্র, কিন্তু লাইসেন্স পত্রের কোথাও উল্লেখ থাকেনা সরকারি আমলা খদ্দর হওয়া নিষিদ্ধ। যৌনতার কোনো ধর্ম নেই, প্রেম ভালোবাসার কোনো বার্ধক্যতা নেই। তবে প্রতিটি অপরাধের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য, হুজুগের বসে সম্মতিকে অভিযোগ বানানোও অপরাধ। সদ্য আলোচিত জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবির'রের যৌন আবেদনময়ী ভিডিও বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়। যে ভিডিও বাংলাদেশের প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে, মাথানিচু করে দিয়েছে ৬৩ জেলার ডিসি সহ সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।
রাজনৈতিক দলের নেতার হাতে সরকারি আমলাদের চাবিকাঠি। এক সময় এদেশে রাজনৈতিক দলের নেতার বিলাসবহুল বালাখানা ছিলো, বর্তমানে প্রাইভেসি বহুল যৌনখানা রয়েছে। প্রাইভেসির ফুটো দিয়ে অনেক গল্পকাহিনী বেরিয়ে এসেছিলো, এসেছে। তার প্রতিক্রিয়া কি ছিলো? একজন নারী, একজন মেয়ে সরাসরি রাষ্ট্রের কাছে, আইনের কাছে, সমাজের কাছে, বিবেকের কাছে যখন অভিযোগ করে আমাকে পদ-পদবীর লোভ দেখিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আমাকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু (?) তার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো? কেমন হয়?
দেশে কি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায়, সমাজ ব্যবস্থায়, পরকিয়া নিষিদ্ধ বলে কোনো আইনুনায়ক ব্যবস্থার এখতিয়ার কি আছে? যদি থাকে তাহলে সেরূপ ব্যবস্থা নিন। যে দেশে শতশত লোমহর্ষক ধর্ষণের বিচার হয়না, যে সমাজে বাবার কাছে মেয়ে নিরাপদ না সেদেশে সম্মতিক্রমে চুমু কিংবা সঙ্গমের বিষয়ে ঢোল পিঠিয়ে কি হবে? এদেশের মানুষ বোঝে, একজন আমলার ঘুষ নেওয়া অপরাধ নাহ কিন্তু ঘুষের টাকায় দামী বাড়ী কিনলে, দামী গাড়ী কিনলে অপরাধ। যেমনটা এরকম, পতিতালয়ের লাইসেন্স দেওয়া যাবে কিন্তু পতিতালয়ে যাওয়া যাবেনা।
একজন ডিসি তাঁর কর্মে তাঁর পদে আসীন হওয়া পূর্বে শপথবাক্যে শপথ করে তাঁর নীতি গচ্ছিত রেখেছেন রাষ্ট্রের কাছে সংবিধানের কাছে। আদর্শচ্যুত না হওয়ার শপথ নিয়েছেন, কিন্তু যৌনতার আদর্শতার শপথ নেননি। ঘুষ না খাওয়ার শপথ নিয়ে ঘুষ খেয়ে শপথ ভঙ্গ করে আদর্শচ্যুত হওয়া অপরাধ নাহ্ কিন্তু পরকিয়া করা অপরাধ। একজন আমলা শপথবাক্য পাঠ করে নীতি আদর্শ জমা দিয়েছেন, সেক্স জমা দেয়নি।
বাংলাদেশ সরকারের আমলাদের নিয়োগ পত্রে কোথাও কি উল্লেখ আছে পরকিয়া করা নিষিদ্ধ। বরং উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহি বহির্ভূত শৃঙ্খলা ভঙ্গ দণ্ডনীয় অপরাধ। দুইটা সন্তানের বেশি হলে সমালোচনা করবেন আবার ফার্মেসী থেকে কনডম নিলেও হাসবেন।
এই বিষয়ে নীতিবাক্য হলো একজন ডিসি কেন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকবে। একজন ডিসি আহমেদ কবির ফেঁসে গেছে, এরকম অনেক ডিসি ও সরকারী আমলা রয়েছে তাদের চারিত্রিক সনদ আছে কিন্তু যৌন সনদ নেই। যৌন সনদ পরীক্ষা করার যন্ত্র আপনারা কই পাবেন? আবার যারা সৎ নীতিবান আছেন আপনারা তাদেরও ডিসি আহমেদ কবির বানিয়ে ছাড়বেন।
ডিসি আহমেদ কবির একজন পিয়ন সহকর্মীর সাথে পাশের রুমে পরকিয়ার লুলুপে উভয়ের সম্মতিক্রমে চুমু আলিঙ্গন সঙ্গম করেছে এটা আমার কাছে দোষের নাহ্। আমার কাছে দোষের হলো, একজন জেলার পিতা একজন প্রশাসনিক অভিভাবক প্রাইভেসির বিষয়ে সচেতন না এটা তাঁর অযোগ্যতা এটা আমার কাছে দোষের। যিনি সম্মতিক্রমে চুমু খেয়েছেন, সঙ্গম করেছেন, তিনি সম্মতি না পেলে অন্য কাউকে ব্ল্যাকমেইল করতো কিংবা পতিতালয়ে জেতো। একজন জেলার পিতা যৌন লুলুপে পতিতালয়ে যাওয়া নিতান্ত আমলা নির্বাচকদের অযোগ্যতা।
একজন সহকর্মীর সাথে চুমু আলিঙ্গন সেক্স করার অপরাধে যদি তাঁর পদবী ক্লোসড হয়ে যায়, সে সেক্সকে বৈধ করতে ডিসি তাঁর ও ঐ মহিলার সাথে পূর্বে গোপনে বিয়ে হয়েছিলো এমন কাবিননামা দেখায় সেটা কি অপরাধ হবে? ভূয়া সনদে চাকরি হয়, ভূয়া কাবিন নামায় চাকরি বাঁচালে অপরাধ কিসে? চাকরি বাঁচাতে বড় অংকের লেনদেনে দেখবেন ভূয়া কাবিননামায় ঐ মহিলাকে ডিসির স্ত্রী বানিয়ে সে চুমু আলিঙ্গন সেক্সকে বৈধ করে দিবে একটি মহল তখন কি আপনারা থেমে যাবেন?
ধর্ষণের বিচার না করে উভয়ের সম্মতিক্রমে সঙ্গমের বিচার নিয়ে লাফালাফি করা এক্সট্রা বাতলামি। সাধনা নামের ঐ মহিলা নিজেই বলেছেন ডিসি'র কোনো দোষ নেই, সব তার দোষ। তিনি বলেননি তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে কিংবা জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। কিছুদিন আগে একজন ওসি ও তিনজন কনেস্টেবল মিলে এক মহিলাকে ধর্ষণ করলো তার বিচার প্রতিক্রিয়া কি?
যে আউট রুম থেকে চুমু আলিঙ্গন সঙ্গমের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে সে রুমে আর্থিক ঘুষ লেনদেনের ভিডিও অবশ্যই থাকার কথা। পরকিয়ার চেয়ে ঘুষ যদি বড় অপরাধ হয়, তাহলে সে ভিডিও সূত্রে তাঁর শাস্তি হউক। যদি তা না হয় দেশের সকল ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করে সকল পতিতালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হোক। মন্ত্রী পরিষদ সচিবের বক্তব্য ডিসি আহমেদ কবির ক্লোসড হতে পারে। যদি তা হয় অন্যান্য আমলারা নিরাপদ নয়, তাদের বিশ্বস্ত সূত্র তাদের স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের ভিডিও ভাইরাল করে ব্ল্যাকমেইল করবে। ডিসি আহমেদ কবিবের সাথে ভিডিও ধারণকারীর মূল বিষয় কি তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। ভিডিওতে তারিখও সময়ের পার্থক্য রয়েছে। দৃশ্যমান তারিখে ঐ আউট রুমে কার/কাদের চলাচল ছিলো এবং ভিডিও ধারনকারী যদি মেমোরির মাধ্যমে না করে ফোন এপস্ ট্যাগ দিয়ে সিসিটিভি ফুটেস ভিডিও করে তাহলে দৃশ্যমান তারিখে ঐ অফিসের কোন ওয়াইফাই লাইন ছিলো তদন্ত করা জরুরী। যৌনতার চেয়ে ঘুষ মারাত্মক বড় অপরাধ, মাথার মগজ যৌনতার বিষয়ে যতোটুকু ক্ষ্যাপে ঘুষের বিষয়েও ততোটুক ক্ষ্যাপামি দেখাক।

Comments
Post a Comment