Posts

রসকষ-৬

Image
-তদন্ত কমিটি কি হয়েছে? জানি,একটি তদন্ত কমিটি হবে। তারা চা-কফি খেয়ে অনেক তদন্ত করার পর আগুনের সূত্রপাত বের করবেন। মিড়িয়ার সামনে এসে বলবেন, শট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে সে কমিটিতে সেফুদাকে প্রধান করার অভিমত ব্যক্ত করছি। -আমাদের দেশে উঁচু তলায় উঠার সরঞ্জাম নেই, কিন্তু উঁচু তলার ভবন অনুমোদন দেওয়ার অফিস ঠিকই রয়েছে। -যে দেশে আগুন নেভাতে নেভাতে লাশের সংখ্যা বাড়ে, সে দেশ নাকি আগামীতে  বিশ্বের ডন হবে।ডন হবে না গুন্ডা হবে সেটা মাথায় আসছেনা। -অগ্নিঝরা মার্চে, অগ্নি অগ্নি করতে করতে এই জাতি আগুন খেয়ে বমি করে।এই দেশে ভবিষ্যতে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের বাম্পার ফলন হবে কিনা জানিনা, তবে ফটোগ্রাফার আর ভিডিওগ্রাফি করার ব্যক্তির বাম্পার ফলন ঠিকই হবে।তার প্রমাণ আজ দেখেছে বিশ্ব। -আগামী বিসিএসে কমন প্রশ্ন কোন দেশের অধিকাংশ মানুষ অগ্নিকাণ্ডে মারা যায়? নির্ধিদায় বাংলাদেশ লেখা যেতে পারে। -আগামী কাল থেকে ফেসবুকে ভাইরাল হবে, কিছু ইমুশনাল গল্প।এই যেমন প্রেগন্যান্ট স্ত্রী সিঁড়ি বেয়ে নামতে পারেনি বলে,তার বর ও নামেনি। -দিনশেষে সব হতাশা কেঁটে উঠার একমাত্র অবলম্বন আমাদের একটি স্যাটেলাইট আ...

রসকষ-৫

-নিয়ম করে আগুন লাগা কোনো  সুনিদির্ষ্ট মহলকে ফাঁসানোর পায়তারা। -ফায়ারসার্ভিসের পানির ফাঁটা পাইপ চেপে ধরায় সবাই নাঈমকে স্যালুট জানাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে পুরো বিষয়টি মনিটরিং করেছেন, তাঁকে কেউ ধন্যবাদ দিচ্ছে না। -নাঈমকে স্যালুট জানাতে জানাতে আমরা ক্লান্ত হচ্ছি, কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করছিনা উন্নয়ণশীল রাষ্ট্রের ফায়ারসার্ভিসের পানির পাইপ ফাঁটা কেন? -কার কাছে জিজ্ঞেস করবো।আগে বিশ্বের অনুন্নত রাষ্ট্রগুলো সিঙ্গাপুর হওয়ার স্বপ্ন দেখতো।কিন্তু আজ, সিঙ্গাপুরও বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ভেবে দেখেছেন কি? আমরা স্বপ্নদোষে কতো এগিয়ে গেছি? -পরের বাচ্চা আয় রোজগার করলে নিজের ছেলে বলে দাবী করি, কিন্তু নিজের ছেলে দোষ করলে পরের মাকে গালাগাল দিয়ে নিজের ছেলেকে অস্বীকার করি।হুম এটা বাঙালীর কাজ। এই যেমন বিল্ডিং করার অনুমোদন দিয়েছে, ইনকাম টেক্স নিয়েছে। কিন্তু আগুন লাগাই অবৈধ  হয়েগেল। -আচ্ছা যারা এফআর টাউয়ার, লিটনের ফ্ল্যাট অবৈধ বলছেন তারা কতোটুকু বৈধ? -রাষ্ট্র উন্নত হলে কনডম ও উন্নত করতে হয়, না হলে সেসব কনডম দুর্ঘটনাবশত মান্দার বাচ্চার জন্ম হতে পারে। -আচ্ছা নাঈম ফায়ারসার্ভিসের ...

আমাদের মিডিয়া গুলো

“আমাদের মিডিয়া গত কয়দিন আগে আগুন লাগা বনানীর এফ আর টাওয়ারকে দুইটি অংশে ভাগ করেছে। একটি বৈধ অংশ,অপরটি অবৈধ অংশ।  বৈধ অংশের মালিকের নাম তারা প্রকাশ করছে না। কিন্তু অবৈধ অংশের মালিকের নাম তারা প্রকাশ করছে।কারন ঐ অংশের মালিক বিএনপি নেতা।যার এখন মিডিয়া পোষার মত ক্ষমতা নাই।  ঐ সম্পুর্ন ভবনের মালিক রুপায়ন গ্রুপ। রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল ভবন তৈরির সময় ১৮ তালা পর্যন্ত অনুমোদন পেয়েছিলেন।এরপর ১৯-২৪ তলা পর্যন্ত বাড়ানো হলে সে অংশ কিনে নেন বিএনপি নেতা তাসবীর।আগুন লেগেছিল ভবনের দশম তলায়।রুপায়ন গ্রুপের হিউজ ইনভেস্ট আছে বিজ্ঞাপনে।তাই এসব সাংবাদিকরা নিজের পেট বাঁচানোর জন্য সামনে নিয়ে আসছে না আগুন লাগা অংশের মালিক মুকুলের নাম।  মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে বের করেছেন 'এফ আর টাওয়ারে'র অবৈধ অংশের মালিকের বিএনপি পরিচয়।কিন্তু উনাদের সে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে নাই।  এই একই ভবনে ২০০৮ সালে প্রথম আগুন লাগে।  সে একই ভবনে আবারো আগুন লেগেছিল ২০১১ সালে।  এবং, ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে দেশে একটা ভূমিকম্প হয়। সেই ভূমিকম্পে বনানী বাণিজ্যিক...

রাষ্ট্র হত্যা করো আমায়

Image
রাষ্ট্র তুমি আমায় মারো,               তবু নিরাপদ সড়ক করো। বিশৃঙ্খলার আবছাঁয়াতে,              মরছে মানুষ দিনে রাতে। লাইসেন্স নামের ধোঁকাবাজি,                 পল্টিনেতার কারসাজি। মাদক সেবনে গাড়ী চালাই,                  পিষে মারা তুচ্ছ প্রায়। যদি চালক ইয়াবা খাই,                লাইসেন্সে তার কি আসে যায়। নিরাপদ আন্দোলনে,               ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামে। কাঁদানেগ্যাস মারছো ছিঁটে,                 লাঠির বারি ছাত্রের পিঠে। লাথি আমায় মারবে যতো,                   নেচে উঠবে রক্ত ততো। তারুণ্যের লোহ তেজে,                  রুখে দাঁড়াবো জেব্রাক্রসে। নেতা প্রতিবার বাণী শোনাই,              ...

ডাকসু বাঁচাও দেশ বাঁচাও

Image
দেশ রসাতলে যাচ্ছে বলে প্রজন্মকে রসাতলে ঠেলে দেওয়া যায় না। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের জন্ম আগ থেকে সব আন্দোলন সংগ্রাম যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক সৃষ্টিতে অবদান রেখে আসছে।আর ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ বলা হয়।বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার হল এই ছাত্র সংসদ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসে গৌরবময় ভূমিকা রাখে এই ছাত্র সংসদ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান  ৭১'এর স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সাহায্য করেছে ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে নির্বাচন হয়েছে সাত বার। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৯০ সালের নির্বাচন ছিল ৭ম ও শেষ নির্বাচন। কিন্তু দীর্ঘ সময়কাল পরে হতে যাওয়া ডাকসু নির্বাচন যে এতো কলঙ্ক পূর্ণ হবে তা কখনো কল্পনা করেনি জাতি। আজ দলক...

১১ মার্চ ঢাবি মৃত্যু দিবস

Image
ঢাবি চবি রাবি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো না কোনো ছাত্র সংগঠন ধারা মার খাই। মার খেয়ে আসছে প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যে সমস্ত সংগঠন গুলো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বেশ আধিপত্য বিস্তারকারী সে সবের দ্বারা। কখনো ছাত্রলীগ ছিল, কখনো ছাত্রদল, কিংবা কখনো ছাত্রশিবির পিটিয়েছে তাদের। কিন্তু নির্ধারিত ভাবে কোন সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত টিস্যুর ন্যায় ব্যবহার ও উষ্ঠা পেদানি দিবে তার কোনো নির্দিষ্টতা ছিলো না। মেরুদণ্ডহীন ভাবে ছিলো ছাত্র সংসদ। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাবি'র সাধারণ শিক্ষার্থীদের উষ্ঠা পেদানির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাত্রলীগের হাতে সমর্পণ করা হলো। আর এতে নির্ধিদায় বলতে পারি ১১ ই মার্চ জাতীয় ঢাবি'র মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

জন্ম ও ধর্ম

Image
শীতের রাত।মুদির দোকানদার জাপান বড়ুয়া দোকান বন্ধ করে বাড়ী ফিরছেন।বাজারের অন্যতম পরিচিত সওদাগর জাপান বড়ুয়ার দোকান থেকে বাড়ীর দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার।একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি পূর্ণ এই উত্তরনলবিলা গ্রামটিতে রয়েছে মুসলিম হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীতে বসবাস।সবার মাঝে রয়েছে একটি সাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্ক।দেখলে নির্ধারণ করা কঠিন।কে মুসলিম,কে হিন্দু,কে বৌদ্ধ।এক ধর্মের সাথে অন্য ধর্মাবলম্বীর লোকের সম্পর্কটা কয়েনের মতো।একদম আড়াআড়ী ভাব,এক অংশ বাদ দিলে অন্য অংশ কল্পনা করা দুষ্কর।জাপান বড়ুয়ার বাড়ী যেতে মধ্য রাস্তায় প্রথমে পড়ে চিতা।তারপরে শ্মশান।গভীর রাত সময় বারোটা ছুঁই ছুঁই।প্রতিদিন কোনো না কোনো পথচারীর সাথে তিনি রাতে বাড়ী ফিরেন।যদি কানো পথচারী  পাওয়া না যায়,তবে গাড়ীতে করে ফিরেন।গভীর রাতে এই দ্বীপাঞ্চলে গাড়ী চলাচল তেমন একটা হয়না।তার উপর আবার শীতের দাপট।দ্রুতগতিতে হাঁটছেন তিনি।চিতার কাছে এসে একটু ভয় লাগলো।তা পেরিয়ে চললেন ডানে বামে না তাকিয়ে।শ্মশান পেরিয়ে বাড়ীর কাছাকাছি মধ্য রাস্তায় হঠাৎ শিশুর কাঁন্নাস্বর শুনতে পেলেন তিনি।ভয়ে শিহরিত হয়ে উঠলো পুরো শরীর।খুব খেয়াল করার চেষ্টা করলেন।এটি আসলে কোনো শি...